সমুদ্রে ডুবে যাবার পরও বেঁচে থাকার ইতিহাসে এক অন্যতম বিস্ময়কর ঘটনা এটি। নাইজেরিয়ার উপকূলে ডুবে যাওয়া একটি জাহাজের ভেতর প্রায় তিন দিন বেঁচে ছিলেন ছবির এই ব্যক্তি।
ঘটনাটি ঘটে ২০১৩ সালের মে মাসে। ১২ জন নাবিক নিয়ে একটি টাগবোট নাইজেরিয়ার উপকূলের উত্তাল সমুদ্রে চলাচল করছিল। জাহাজটি একটি তেলবাহী ট্যাংকার টেনে নিয়ে যাচ্ছিল।
ভোর আনুমানিক সাড়ে চারটার দিকে হঠাৎ একটি শক্তিশালী ঢেউ আঘাত হানে। টানার দড়ি ছিঁড়ে যায়, এবং মুহূর্তের মধ্যেই টাগবোটটি উল্টে ডুবে যেতে শুরু করে।
জাহাজটির রাঁধুনি হ্যারিসন ওকেনে তখন বাথরুমে ছিলেন। অন্য অধিকাংশ নাবিক নিজ নিজ কেবিনে তালাবদ্ধ অবস্থায় ঘুমাচ্ছিলেন। ওই এলাকায় জলদস্যুদের হুমকির কারণে নিরাপত্তার অংশ হিসেবে কেবিনগুলো বাইরে থেকে তালাবদ্ধ রাখা হতো। কিন্তু সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থাই শেষ পর্যন্ত তাঁদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অন্ধকারে ওকেনে বাথরুম থেকে ছিটকে পড়েন, তখন তাঁর পরনে ছিল শুধু একটি আন্ডারওয়্যার। চারদিক ছিল সম্পূর্ণ অন্ধকার। ছোট জায়গার ভেতরে তিনি একদিক থেকে আরেকদিকে আছড়ে পড়ছিলেন। তবে ভাগ্যের জোরে তিনি ইঞ্জিনিয়ারদের অফিস রুমে পৌঁছাতে পারেন, যেখানে একটি ছোট এয়ারপকেট ছিল।
ততক্ষণে জাহাজটি প্রায় ১০০ ফুট গভীরে, সমুদ্রের তলদেশে, উল্টো হয়ে স্থির হয়ে গেছে। খাবার নেই, বিশুদ্ধ পানি নেই, ঠান্ডা ও ভেজা পরিবেশে অক্সিজেন দ্রুত কমে আসছিল। এমন অবস্থায় বেঁচে থাকার সম্ভাবনা প্রায় ছিল না বললেই চলে।
তবু একের পর এক কাকতালীয় ঘটনায় ওকেনে বেঁচে যান। ওই রুমে তিনি একটি কোকাকোলার বোতল এবং দুটি ছোট ফ্ল্যাশলাইট লাগানো একটি লাইফ জ্যাকেট খুঁজে পান। তবে চারপাশে হাঙর বা মাছ তার সহকর্মীদের দেহ খাবার শব্দ শুনে তিনি ক্রমেই আশা হারাতে শুরু করেন।
পদার্থবিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী, মানুষের প্রতিদিন প্রায় ৩৫০ ঘনফুট বাতাস প্রয়োজন। কিন্তু সমুদ্রতলের চাপের কারণে ওই এয়ারপকেটটি স্বাভাবিকের প্রায় চার গুণ বেশি সংকুচিত ছিল। সেই বাতাস ওকেনেকে প্রায় ৬০ ঘণ্টা বা আড়াই দিন বাঁচিয়ে রাখার মতো অক্সিজেন সরবরাহ করতে পেরেছিল।
আরেকটি বড় বিপদ ছিল কার্বন ডাই–অক্সাইড। এই গ্যাস ৫ শতাংশ মাত্রায় পৌঁছালে মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। ওকেনে শ্বাস নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাসের পরিমাণ বাড়ছিল। তবে তিনি নিজের অজান্তেই পানির ওপর নাড়া দিচ্ছিলেন, ফলে পানির সংস্পর্শের ক্ষেত্রফল বাড়ে, এবং কার্বন ডাই–অক্সাইড পানিতে শোষিত হতে থাকে। এতে গ্যাসের মাত্রা প্রাণঘাতী পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
হাইপোথার্মিয়াও ছিল বড় হুমকি। শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে গেলে মানুষ দ্রুত অচেতন হয়ে পড়ে। কিন্তু ওকেনে একটি ম্যাট্রেস দিয়ে ছোট একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেন, যা তাঁকে পানির ওপরে রাখতে সাহায্য করে। শরীর সরাসরি ঠান্ডা পানিতে থাকলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হতো।
প্রায় ৬০ ঘণ্টা পর উদ্ধারকারী ডাইভাররা ধ্বংসাবশেষের ভেতরে একজন মানুষের হাত নড়তে দেখেন। তারা তখন মৃতদেহ খুঁজছিলেন এবং ইতোমধ্যে চারটি লাশ উদ্ধার করেছিলেন। এই দৃশ্য ভিডিওতে ধারণ করা হয়।
অবশেষে ওকেনেকে ডিকমপ্রেশন চেম্বারে করে উপরে তোলা হয়। তিনি তখনও জানতেন না কত সময় কেটে গেছে। পরে তিনি জানান, উপরে উঠে আকাশের তারা দেখে তাঁর মনে হয়েছিল, তিনি হয়তো এক দিন পানিতে ছিলেন। ডিকমপ্রেশন চেম্বার থেকে বের হওয়ার পরই জানতে পারেন, তিনি দুই দিনেরও বেশি সময় সমুদ্রের নিচে ছিলেন!
🎁 Your Special Offer is Loading...
Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.
⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Post a Comment